Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

এক মিনিটের বিচারেই দিতেন ফাঁসির আদেশ, গ্রেপ্তার সেই বিতর্কিত বিচারক

দ্রুত বিচার এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের জন্য কুখ্যাত এক বিচারককে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাত্র এক মিনিটের বিচারে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন, যা আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।


বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিচারক মোহাম্মদ ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের সময় তার ব্যক্তিগত কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক নথি এবং অডিও রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিচারক ফারুক তার আদালতে অভিযুক্তদের সঠিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অতি দ্রুত রায় ঘোষণা করতেন। তার দেওয়া ফাঁসির আদেশগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল উচ্চ আদালতে বাতিল হওয়ার মতো অমানবিক ও ভিত্তিহীন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, "এ ধরনের বিচার ব্যবস্থা কেবল ব্যক্তি অধিকার লঙ্ঘন করে না, এটি ন্যায়বিচারের চরম অপমান।"

আইন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, "এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারক ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। কোনোভাবেই আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ন্যায়বিচারের স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এছাড়া, একাধিক ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবার দাবি করেছেন, বিচারক ফারুক কখনোই সঠিকভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করতেন না। ফলে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি তার নির্দেশে মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনোয়ারুল হক বলেন, "বিচার ব্যবস্থা যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, তবে তা পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ঘটনায় দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।"

জানা গেছে, বিচারক ফারুকের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিচার ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া সংশয় কাটিয়ে ওঠার জন্য দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ